Voice World BD News

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য ‘উসকানিমূলক’: হেফাজত

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য ‘উসকানিমূলক’: হেফাজত

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য ‘উসকানিমূলক’: হেফাজত

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন ‘প্রয়োজন ছিল না বলে’ সংস্কৃতিমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা ‘সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে হেফাজতে ইসলাম।

বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে।

বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বলে আমরা মনে করি। এছাড়া আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে পার্থক্য নেই বলে তার দাবিটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ পালিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।

বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ থাকবেন না।

‌‌তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে সনাতনীদের ধর্মীয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মুসলিমদের ওপর চাপানো যাবে না।

বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাবি চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ হয়। শুরু থেকেই এটির নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ার পাপেট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে দেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিরোধিতা বা আপত্তি করিনি। কারণ আমরা সাম্প্রদায়িকতা লালন করি না। কিন্তু আমাদের ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে যারা আবারও সুযোগ করে দিতে চাইবে, আমরা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ।

 

বাংলা ম্যাগাজিনএস এইচ

Exit mobile version