একই অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে দুই এআইয়ের জমা পড়ল তিন

আপনি হয়তো ভাবছেন, এমন কাকতালীয় ঘটনা কীভাবে সম্ভব? আসলে এটি পুরোপুরি শূন্য থেকে ঘটেনি। সেই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে অবস্থিত সাইমন্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য থিওরি অব কম্পিউটিংয়ে একটি আলোচনা সভা হয়েছিল। সেখানে রাঘবন এবং সাহাই উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই একটি অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যা সবার সামনে তুলে ধরা হয়। তারা দুজনেই আলাদাভাবে সমস্যাটি সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন। মজার ব্যাপার হলো, তারা দুজনেই একই এআই মডেল ব্যবহার করেন, কিন্তু তাদের কাজের ধরন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

এই গবেষণার মূল বিষয়টি হলো কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফির একটি বিশেষ শাখা, যাকে বলা হয় আনক্লোনাবল এনক্রিপশন। কোয়ান্টাম তথ্যের একটি দারুণ বৈশিষ্ট্য হলো, সাধারণ ডেটার মতো একে কখনো হুবহু কপি বা প্রতিলিপি করা যায় না। এই এনক্রিপশনের মূল লক্ষ্য হলো, কোনো সংবেদনশীল বার্তাকে এমনভাবে গোপন করা, যেন কেউ এটি হাতে পেলেও ডিক্রিপ্ট করার চাবি দিয়ে সেটিকে দুটি ব্যবহারযোগ্য অংশে ভাগ করতে না পারে।

২০১৯ সালে কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান ব্রডবেন্ট এবং তার তৎকালীন ছাত্র সেবাস্টিয়েন লর্ড এই আনক্লোনাবল এনক্রিপশনের একটি আধুনিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে এটি করা সম্ভব, কিন্তু সেই পদ্ধতিগুলো তেমন কার্যকর ছিল না অথবা নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু নতুন এই দুটি গবেষণাপত্র দাবি করেছে যে, কোনো রকম শর্ত বা অনুমান ছাড়াই এই এনক্রিপশনের একটি কার্যকর সংস্করণ এখন তৈরি করা সম্ভব।

Exit mobile version