স্ট্রিং থিওরির সূচনা ও প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ভবিষ্যদ্বাণী নব্বইয়ের

নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি স্ট্রিং থিওরি অনেক নাটকীয় পথ পাড়ি দিয়েছে। শুরুর দিকে ধারণা করা হতো, পদার্থ বা কণাগুলো আসলে কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু নয়; বরং অতি ক্ষুদ্র কম্পনশীল সুতা বা স্ট্রিং। পরে জানা যায়, এই অভিনব ভাবনার ওপর ভর করেই আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম মেকানিকসের মধ্যে এমন এক গাণিতিক সেতু তৈরি করা সম্ভব, যা প্রচলিত পদার্থবিদ্যায় এত দিন অসম্ভব বলেই মনে করা হতো।

তবে এডওয়ার্ড উইটেনের মতে, স্ট্রিং থিওরির এই অগ্রগতি কিন্তু কোনো সহজ বা মসৃণ পথ ছিল না। এটি যেন রোমাঞ্চকর কোনো উপন্যাসের গল্প, যেখানে পদে পদে তত্ত্বটি ভুল বা অসংগত প্রমাণিত হয়ে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। অথচ প্রতিবারই কোনো না কোনো অদ্ভুত গাণিতিক জাদুবলে বা ‘অলৌকিক উপায়ে’ সব বাধা পেরিয়ে তত্ত্বটি ঠিকই টিকে গেছে!

উদাহরণস্বরূপ, ১৯৮২ সালের দিকে উইটেন খেয়াল করেন, স্ট্রিং থিওরি প্রকৃতির অন্যতম একটি মৌলিক নিয়ম। অর্থাৎ দুর্বল পারমাণবিক বলের ক্ষেত্রে বাম ও ডান হাতের অসামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু এর ঠিক দুবছর পর, ১৯৮৪ সালে বিজ্ঞানী জন শোয়ার্জ এবং মাইকেল গ্রিন এমন এক যুগান্তকারী গাণিতিক কৌশল আবিষ্কার করেন, যা এই ত্রুটিকে রাতারাতি দূর করে দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ বিস্ময়কর ঘটনা উইটেনকে এতই আলোড়িত করেছিল যে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের পুরো দিক বদলে পুরোপুরি স্ট্রিং থিওরি গবেষণায় আত্মনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

Exit mobile version