নদী গণিতের যে নিয়ম মেনে চলে পৃথিবীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাই হলো

পৃথিবীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাই হলো নদী

পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় প্রতিটি জায়গায় বৃষ্টির পানি পড়ে। সেই পানির অনেকটাই শেষ পর্যন্ত কোনো নদী, হ্রদ বা সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। মানে, নদী হলো পৃথিবীর বিশাল এক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা।

নদীর এই নেটওয়ার্ক নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিজ্ঞানী জন হ্যাক। ১৯৫৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের নদী ও খাল নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি প্রতিটি নদী বা খালের দৈর্ঘ্য মাপেন। পাশাপাশি হিসাব করেন, নদীটির দিকে যে বিশাল এলাকার পানি ঢাল বেয়ে নেমে আসে, সেই এলাকার আয়তন কত। এই এলাকাকে বলা হয় পানিনিষ্কাশন এলাকা।

জন হ্যাক দেখলেন, ছোট্ট একটি ঝরনা থেকে শুরু করে বিশাল নদী; সব ক্ষেত্রেই নদীর দৈর্ঘ্য আর এর পানিনিষ্কাশন এলাকার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে। নদীর দৈর্ঘ্য মোটামুটি এর পানিনিষ্কাশন এলাকার আয়তনের ০.৬ ঘাত বা পাওয়ারের সমানুপাতিক।

গাণিতিকভাবে বিষয়টি লেখা যায়: L ~ A⁰·⁶। এখানে L হলো নদীর দৈর্ঘ্য, আর A হলো পানিনিষ্কাশন এলাকার আয়তন।

পৃথিবীর প্রকৃতি অবশ্য এতটাও নিখুঁত নয় যে প্রতিটি নদী এই নিয়ম হুবহু মেনে চলবে। কিছুটা পার্থক্য থাকবেই। কিন্তু পৃথিবীর নানা অঞ্চলের নদীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সম্পর্কটি আশ্চর্য রকমভাবে মিলে যায়!

Exit mobile version