জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কি সম্ভব পারপেচুয়াল মেশিন প্রসঙ্গে

ছবি: সংগৃহীত

পারপেচুয়াল মেশিন: সামথিং ফর নাথিং

পারপেচুয়াল কথাটির অর্থ হচ্ছে চিরস্থায়ী। পারপেচুয়াল মোশন হচ্ছে এমন গতি, যা একবার শুরু করে দিলে অবিরাম চলতে থাকবে। যে যন্ত্র বা যে যন্ত্রের মধ্যকার কোনো অংশ এমন চিরস্থায়ী গতিতে থাকে, সেই যন্ত্রকেই পারপেচুয়াল মেশিন বলা হয়। যেহেতু আলোচ্য যন্ত্রটি বা যন্ত্রাংশটি চিরকাল গতিতে থাকবে, সেহেতু এমন যন্ত্র থেকে অবিরাম শক্তি উৎপাদন করা যাবে। অর্থাৎ কোনো জ্বালানি খরচ না করলেও যন্ত্রটি কাজ করবে বা শক্তি উৎপাদন করবে। অন্যভাবে বললে, ইনপুট শূন্য হলেও আউটপুট অশূন্য হবে। গাণিতিক বিচারে এমন যন্ত্রের দক্ষতা অসীম। আশা করছি, প্রথম অসংগতিটি ইতিমধ্যেই সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র বা শক্তির নিত্যতা সূত্র কিন্তু এমন যন্ত্রকে সমর্থন করে না। শক্তির শুধু রূপান্তরই সম্ভব, শক্তির সৃষ্টি কিংবা ধ্বংস সম্ভব নয়। যেহেতু একবার চালু করে দিলেই পারপেচুয়াল মেশিন বাইরের কোনো শক্তি বা সরবরাহ ছাড়া অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে, সেহেতু স্পষ্টতই এটি তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র তথা শক্তির নিত্যতা সূত্রকে অমান্য করছে। বাস্তবে কোনো গতিই চিরস্থায়ী হয় না। কারণ কী? কারণ হচ্ছে ঘর্ষণের মতো বিভিন্ন বাধাদানকারী বল। এসব কারণে শক্তির অপচয় ঘটে এবং আস্তে আস্তে গতি নিঃশেষ হয়ে যায়।

যদিও এমন কিছু যুক্তি আছে, যেখানে দাবি করা হয় যে কোনো যন্ত্র থেকে ঘর্ষণের মতো বাধাদানকারী বল যদি সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব হয়, তাহলে ওই যন্ত্রটি দ্বারা চিরস্থায়ী গতি অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র এমন যুক্তি সমর্থন করে না। প্রথমত, শক্তির পরিপূর্ণ রূপান্তর সম্ভব নয়; দ্বিতীয়ত, বাহ্যিক কাজ ব্যতীত শক্তির অবিরাম প্রবাহও সম্ভব নয়। সুতরাং বলা যেতে পারে, চিরস্থায়ী গতিসম্পন্ন যন্ত্র পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত, বাস্তবে এটি নির্মাণ করা অসম্ভব।

বাংলা ম্যাগাজিন /এস পি

Copy URL
URL Copied

Exit mobile version