বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের অভাব দেশের আর্থিক খাতকে চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। আধুনিক বিশ্বের জটিল অর্থব্যবস্থায় এই প্রতিষ্ঠানে অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক জ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী আমলে আমলা বা অভিজ্ঞতাহীনদের নিয়োগ দিয়ে দেশের আর্থিক খাতের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের প্রশংসা করে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রি এবং আইএমএফ-এ কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি রিজার্ভ পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির (মব) মাধ্যমে তাকে ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য করা এবং পরবর্তীকালে সরকার কর্তৃক তার নিয়োগ বাতিল করাকে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যার অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা বা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা নেই। তিনি মূলত একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন গভর্নরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের’ প্রায় ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ গত ডিসেম্বরেই পুনঃতফসিল করা হয়েছে। একজন ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান করায় বড় ধরনের ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি হবে বলে বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে কেবল দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই গভর্নর নিয়োগ দেওয়া উচিত। বর্তমান এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
