প্যান্ট বানাতে এত পানি লাগে কেন লুকানো পানির হিসাবপানির এই হিসাব

লুকানো পানির হিসাব

পানির এই হিসাব শুধু কারখানার পাইপ থেকে বের হওয়া পানি নয়। বিজ্ঞানীরা এই পুরো বিষয়টিকে বলেন ভার্চুয়াল ওয়াটার বা এমবেডেড ওয়াটার। কোনো পণ্য উৎপাদনের পুরো চেইনে যে পানি ব্যবহৃত হয়, সেটাই ভার্চুয়াল ওয়াটার। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টনি অ্যালান আশির দশকে এই ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন। তাঁর যুক্তি ছিল, পণ্যের মধ্যে লুকানো থাকে অনেক পানি, যা আমরা দেখি না।

দূষণ ও পরিবেশগত প্রভাব

পানির ব্যবহারের পাশাপাশি আছে দূষণের প্রশ্ন। ডেনিম কারখানার বর্জ্য পানিতে থাকে ইন্ডিগো রং, ভারী ধাতু ও ব্লিচিং রাসায়নিক। পরিশোধন ছাড়া এই পানি নদীতে পড়লে জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়। চীনের জিনতাং অঞ্চলকে বলা হয় পৃথিবীর প্যান্ট রাজধানী। এখানে প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার রঙিন বর্জ্য পানি আশপাশের নদীতে মিশেছে বছরের পর বছর। স্থানীয় বাসিন্দারা একসময় আগামীকাল কোন রঙের প্যান্ট তৈরি হবে, তা নদীর রং দেখেই বলে দিতে পারতেন!

পরিবর্তন আসছে, তবে ধীরে

বিখ্যাত ডেনিম ব্র্যান্ড লেভিস (Levi’s) তাদের ওয়াটারলেস প্রযুক্তিতে কিছু প্রক্রিয়ায় পানির ব্যবহার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে দাবি করে। ওজোন ওয়াশিং, লেজার ফেডিং, আবদ্ধ পানি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা—এই পদ্ধতিগুলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

কিন্তু বৈশ্বিক প্যান্ট উৎপাদন প্রতিবছর ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি পিস। প্রযুক্তিগত উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, তবে এই বিপুল সংখ্যার সামনে সেটি এখনো অপ্রতুল। পানির সংকট যত গভীর হবে, এই প্রশ্নটা ততই সামনে আসবে—একটি প্যান্টের আসল দাম কত?

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড

Exit mobile version