৫
শাহাদুজ্জামান বুঝতে পারছে, অদ্ভুত কিছু একটা হচ্ছে। ব্রাঞ্চ সিমুলেশন তৈরি হয়েছে কোনোভাবে; অর্থাৎ মূল সিমুলেশনটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে সিমুলেশনের ভেতরে তৈরি হয়েছে দুটি বাস্তবতা।
একটি বাস্তবতায় বিড়ালটি জীবিত। আরেকটি বাস্তবতায় বিড়ালটি মৃত।
অথচ এমন হওয়ার কথা নয়।
কোয়ান্টাম ফিজিকসের প্রতিষ্ঠাতা উইলো ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, দর্শক যা চাইবে, সেই চাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বাস্তবতা বদলে যেতে পারে। ধরা যাক, একটা বাক্সে একটা বিড়াল আছে। বাক্সে আছে একটা বাষ্পীয় বিষভরা পাত্র। এই পাত্রের ওপর একটা হাতুড়ি ঝোলানো, ওটাকে থামিয়ে রেখেছে তেজস্ক্রিয় পরমাণুর একটি টুকরা। এই পরমাণুগুলো যেহেতু তেজস্ক্রিয়, ভেঙে যেতে পারে হঠাৎ। তখন হাতুড়িটা আঘাত করবে বাক্সের গায়ে, ফলে ছড়িয়ে পড়বে বিষবাষ্প। তাতে মারা পড়বে বিড়ালটি।
বিড়ালটি কি তবে এখন জীবিত, নাকি মৃত? কে সিদ্ধান্ত নেবে? উইলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত নেবে দর্শক। সেই হিসাবেই গড়ে উঠবে বাস্তবতা। দর্শক যদি জীবিত বিড়াল চায়, তবে বাক্স খুলে দেখা যাবে, বিড়ালটি আরাম করে ঘুমাচ্ছে। দর্শক যদি চায় মৃত বিড়াল, তবে ভেঙে যাবে বিষবাষ্পের পাত্র, মারা পড়বে বিড়াল।
সিমুলেশনে তা হয়নি। দুটি ভিন্ন বাস্তবতা—ব্রাঞ্চ রিয়েলিটি সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি…?
বাস্তবতা একাধিক শাখায় বিভক্ত হতে পারে?
একসঙ্গে একাধিক বাস্তবতা বা একাধিক মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকতে পারে?
দুটি শাখায় বাস্তবতার ধরন ভিন্ন হতে পারে?
শাহাদুজ্জামান লাল বাটনটি চাপল। মহামান্য আর্টের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে এই বাটনে চাপ দিতে হয়।
এখন আসলেই জরুরি পরিস্থিতি। এর অর্থ, মহাবিশ্ব, সময় বা বাস্তবতার একমাত্র অধিকারী ওরা নয়। আরও কেউ আছে। ভিন্ন কোনো বাস্তবতায়। অন্য কোথাও, কোনোখানে।
