শিক্ষার্থীদের হয়রানি: যুবদল নেতাকে আটকে রাখলো ছাত্ররা, ৩ মাসের জেল

বরিশালের গৌরনদীতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি ও দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের পর কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অপরাধে যুবদলের এক নেতাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত লিপন শরীফ উপজেলার নাঠৈ গ্রামের বাদশা শরীফের ছেলে এবং জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন জানিয়েছেন, যুবদল নেতা লিপন শরীফ গত কয়েক মাস ধরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার স্কুলের বিরতিকালীন সময়ে অহেতুক দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্কুলের মাঠে নিয়ে কান ধরিয়ে ওঠবস করান। বিষয়টি দেখে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যান লিপন শরীফ।

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, এ নিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত লিপন শরীফের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় লিপন শরীফ লাঠি হাত নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমকে জানানো হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এলে শিক্ষার্থীরা লিপন শরীফের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর নিজের অপরাধ স্বীকার করলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লিপন শরীফকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘বুধবার দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

↑
Exit mobile version