সংখ্যায় লেখা এই পৃথিবী প্রসঙ্গে | বিজ্ঞানচিন্তা শ্যানন দেখলেন

শ্যানন দেখলেন, যেকোনো বার্তাকে শেষ পর্যন্ত ০ আর ১-এর ধারাবাহিকতায় লেখা যায়। সব সংখ্যাকে লেখা যায় বাইনারিতে। বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষরকে আমরা একেকটা সংখ্যা দিলে তাদের আলাদা করতে কয়েকটা ০ আর ১-এর ধারাই যথেষ্ট। কয়েকটা অক্ষর মিলে শব্দ। কয়েক হাজার শব্দ মিলে একটা বই। আপনার কণ্ঠকে প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার বার মাপলে প্রতিটি মাপ একটা সংখ্যা হয়, আর প্রতিটি সংখ্যা আবার ছোট ছোট ০ আর ১-এ ভেঙে যায়। একটা ছবিও একই জিনিস, শুধু সেখানে লাখ লাখ ক্ষুদ্র রঙের মান লেখা থাকে।
যা কিছুকে সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায়, সেটাকে কোনো না কোনোভাবে এই ভাষায় লেখা যায়। আর এই যা কিছুর ভেতরে আছে সবকিছু।
একটা ০ বা ১ হলো এক বিট। শ্যাননের তথ্যের মাপ আসলে খুব সাধারণ একটা প্রশ্নের উত্তর—আপনার বার্তাকে প্রকাশ করতে ঠিক কতগুলো বিট লাগবে?
খেয়াল করুন, এই হিসাব করার জন্য তাকে কখনো জানতে হয়নি সংখ্যাটা কী বোঝাচ্ছে। ছয় মানে ছয় ডলার, ছয় বছর বয়স, নাকি ছয়টা ডেডবডি, তাতে হিসাব বদলায় না। এই ইনডিফারেন্সই ইনফরমেশন থিওরির শক্তি। যে তার প্রতি সেকেন্ডে নির্দিষ্টসংখ্যক ১ আর ০ বহন করতে পারে, সে পৃথিবীর যেকোনো তথ্য বহন করতে পারে। কণ্ঠ, ছবি, প্রেসক্রিপশন, প্রেমপত্র, ব্যাংক চেক কিংবা রেজিগনেশন লেটার—সবকিছুই আসলে ‘A Series of 0 and 1’।
০ আর ১। নেভা আর জ্বলা। সার্কিট অন কিংবা সার্কিট অফ।
সমুদ্রের নিচের ফাইবার অপটিক কেবল জানে না সে কারও ভালোবাসা বহন করছে। সে শুধু আলোর জ্বলা আর নেভা বহন করে। ভালোবাসাটা তবু পৌঁছে যায়।


