Voice World BD News

ফটিকছড়িতে খাল খননের সুফল পাচ্ছেন কৃষক

ফটিকছড়িতে খাল খননের সুফল পাচ্ছেন কৃষক

ফটিকছড়িতে খাল খননের সুফল পাচ্ছেন কৃষক

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল আর বন্যার  পানিতে প্রতিবছর ডুবে যায় উপজেলার পাইন্দং এলাকার নিন্মাঞ্চল। এতে কৃষকের সোনালী ধান, বীজতলা ও খরিপ ফসল পানিতে ডুবে পঁচে যায়। দীঘি পুকুর ভেসে গিয়ে কোটি টাকার মাছ  চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকাবাসী। সেই দুঃখ এবার ঘুচতে চলেছে । গেল বর্ষার আগে পাইন্দংয়ের পাটিয়াল খাল খনন হয়। দুই কিলোমিটারে খাল খননের ফলে ইতোমধ্যে ৪ শতাধিক কৃষক সুফল ভোগ করছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাও কমে গেছে।
সম্প্রতি সবুজবাগ গ্রামে পাইন্দং পাটিয়াল খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উদ্যোগে কর্পোরেশনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাল খনন কাজের উদ্যোক্তা, সাবেক ব্যাংকার জসিম উদ্দীন চৌধুরী। প্রধান আলোচক বিএডিসির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাস। উদ্বোধক ছিলেন পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একে ছরওয়ার হোসেন স্বপন । বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএডিসির সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দিপন চাকমা, নাজিম উদ্দীন, মঈন উদ্দীন মনজু, পাইন্দং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন, জামায়াত ইসলামির সভাপতি এরশাদ উলাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন- অবসরকালীন জীবনে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমার প্রিয় জন্মভূমির উন্নয়নে ও মানবিক সেবায় নিয়োজিত রাখতে চাই। শৈশব থেকে দেখে আসছি এই খালটি ভরাট হয়ে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যার ফলে বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতে বন্যা হয় ও শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এলাকার কৃষি কাজের ব্যাঘাত ঘটে। এলাকাবাসীর আবেদেেন প্রেক্ষিতে আমি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুততম সময়ে এই মরা খালটি পুনঃখনন  করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
পাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ.কে.এম  সরোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, জসীম উদ্দীন চৌধুরীর মত সুশীল সমাজের কৃতি ব্যক্তিরা যদি গ্রামীণ জনপদের সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে আসেন তাহলে এই দেশ অচিরেই সোনার বাংলায় পরিণত হবে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ত।  তারপর পাহাড়ি ঢলের আতঙ্কতো আছেই। এ কারণে অনেকে ফসল ও মাছ চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল। এখন খাল পুন:খনন হওয়ায় এলাকার কৃষকরা মহাখুশি। সবাই সুফল পাচ্ছেন বলে তারা জানান। বিএডিসির সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দিপন চাকমা জানান,  গেল অর্থবছরে খালটির খনন কাজ শুরু হয়। এতে সময় লাগে দেড় মাস। বর্তমানে খাল খনন হওয়ায় এলাকার চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। নতুন করে চাষে নামার স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সালেক বলেন, উপজেলার পাইন্দংয়ের পাটিয়াল খাল পুন:খননের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় শতশত কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন, যা আমন ও বোরো আবাদের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষেও সুযোগ পাবে।

Exit mobile version