ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে রোজায় মুদি দোকান ও কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়ালেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো নজরদারি নেই বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে শাকসবজি সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অধিকাংশ দোকানে নেই পন্যমুল্য তালিকা। এর ফলে দোকান মালিকরা যে যার ইচ্ছামত দাম আদায় করছে।  কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কিংবা তদারকি। উপজেলা প্রশাসন কিংবা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। রোববার ও সোমবার উপজেলার কয়েটি বৃহৎ হাটবাজার সরেজমিন ঘুরে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি যে সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে তা উঠে এসেছে।

গত ৫দিনে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম প্রকার ভেদে ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল,সোলা ও চিনি সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শাকসবজির  পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে দাম কমছে না। মাত্র ২/৩দিনের ব্যবধানে প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১৫-২০ টাকা। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও প্রতিকেজি চাল ও চিনির দাম বেড়েছে ৩থেকে ৫টাকা। আর প্রতিকেজি ফলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০থেকে৫০টাকা। বয়লার মুরগির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বেড়েছে গরু ও খাসির মাংশেরও । লেবু,বেগুনসহ কিছু কিছু সবজির দাব বেড়েছে দ্বিগুন।
 
উপজেলার নিমগাছি বাজারে বাজার করতে আসা এক এনজিও কর্মচারি বলেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ছে। বাজারে আসি এক হিসাব করে, গিয়ে দেখি অন্য হিসাব। অথচ বাজারে প্রশাসনের কাউকে দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে দু-একটা অভিযান হলেও জরিমানা দিয়ে ব্যবসায়ীরা আবার আগের মতোই দাম বাড়ায়।” নিমগাছি বাজারের সবচেয়ে বড় দোকান গনেশ ভান্ডারের সত্বাধিকারী গনেশ মালাকার বলেন, চিনির দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তার দোকানে কোন মুল্য তালিকা দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন কেবল রোজা শুরু হয়েছে। দুএকদিনের মধ্যেই লাগানোর কথা বলেন।

চান্দাইকোনা পাবনা বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি কলেজের শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, সবকিছুরই মুল্য বেড়েছে। বেগুনের মুল্য আকাশ ছোয়া। ফলের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন দোকানে মুল্য তালিকা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন মনিটরিং নেই। সাধারন মানুষ ব্যবসায়ীদের নিকট জিম্মি। আমরা বাধ্য হয়ে যতটুকু দরকার তার অর্ধেক বাজার করে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন,এই বাজারের অধিকাংশ দোকানে নেই মুল্য তালিকা। বাজারের বড় ব্যবসাী মেসার্স কুন্ডু  এ্যান্ড সন্সের সত্বাধিকারী প্রশান্ত কুমার কুন্ডু বলেন,এবার তেমন কোন মুল্য বৃদ্ধি পায়নি। প্রশাসনের নজরদারি কেমন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন এখন পর্যন্ত বাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি তার চোখে পড়েনি।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ি বলেন, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। পাইকারি বাজার এবং আমদানিকারক পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি দরকার। তবেই খুচরা বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি  পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্যের ব্যবধান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি, অসাধু মজুদদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, প্রতিটি বাজারে দৃশ্যমান মূল্যতালিকা টাঙানো নিশ্চিত করতে হবে। হাটবাজার ইজারদার ও বাজার কমিটির কেউ এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, বাজার মনিটরিং অথবা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে এখন পর্যন্ত  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন শৃংখলা বাহিনীর কোন সহযোগীতা চাওয়া হয়নি। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারির সাথে সোমবার বেলা পৌনে তিনটায় একাধিকবার মুঠোফোন ও হোয়াট্সএ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মাধ্যমই রিসিভ  না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

বাংলা ম্যাগাজিন /এস পি

Related Articles