জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ: ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী, যা মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন, যা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা জোগায়।

তিনি বলেন, “সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার পরপরই দেশের সর্বস্তরের মানুষ সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এই স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তির একক অবদান নয়—এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল।”

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি নিজে মিঠামইনে গিয়েছিলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে। সেই সময় দেশের প্রতিটি মানুষ ছিল মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত, যা আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।”

বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। “এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্েযর সঙ্গে লড়াই করছে। পেটে ভাত, পরনে কাপড়-এই মৌলিক অধিকার আজও সবার জন্য নিশ্চিত করা যায়নি। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই, যা জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের যে চর্চা স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ যে উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা ছিল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই পরিচিতি এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। তবে আমরা হতাশ নই-মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন, তাঁদের আদর্শ ও চেতনা আমাদের পথ দেখাচ্ছে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণ করায় দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বিশ্বাস করি; যে স্বপ্ন, যে আকাঙ্ক্ষা এবং যে ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নেবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং গণতন্ত্র সুসংহত হবে।”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকার করে, তারা এ দেশের শত্রু, আলবদর-রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ফলে আজ বাঙালিরা সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছে। “এক সময় এই দেশে বাঙালিরা উচ্চপদে আসীন হতে পারত না। আজ আমরা জেনারেল, মেজর জেনারেল, কর্নেল, সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছি-এটি মুক্তিযুদ্ধেরই অর্জন, আমাদের গর্ব।”

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় “মিঠামইন ক্লাব” মাঠে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি দেশাত্মবোধক চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে বক্তারা স্বাধীনতার মূল্যবোধ ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এস পি

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।