পৃথিবীর চৌম্বক মেরু বদলে প্রসঙ্গে গেলেও প্রাণীরা যেভাবে পথ চিনবে

প্রথমত, প্রাকৃতিক নির্বাচন। যেকোনো প্রাণীর দলেই জিনগত মিউটেশনের কারণে এমন কিছু সদস্য জন্মায়, যাদের ভেতরের ‘কম্পাস’ একটু উল্টাপাল্টা কাজ করে। সাধারণ সময়ে এই ত্রুটিপূর্ণ কম্পাসের কারণে তারা হয়তো পথ হারিয়ে মারা যায়। কিন্তু যখন পৃথিবীর চৌম্বক মেরু উল্টে যায়, তখন ওই ভুল কম্পাসওয়ালা সদস্যরাই একদম ঠিকঠাক পথ চিনে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। বাকিরা পথ হারিয়ে মারা পড়লেও, এই ত্রুটিপূর্ণ সদস্যরাই তখন দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে পুরো শূন্যস্থান পূরণ করে নেয়। বিশেষ করে পোকামাকড়দের ক্ষেত্রে এটি খুব দ্রুত ঘটে, কারণ এদের জীবনচক্র অত্যন্ত ছোট।

দ্বিতীয়ত, পথ চেনার বিকল্প উপায়। পরিযায়ী প্রাণীরা পথ চেনার জন্য অন্ধের মতো কেবল চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করে না। তাদের কাছে বিকল্প প ব্যবস্থাও থাকে। যেমন সূর্য, তারা বা আশপাশের গন্ধ। ওয়ারেন্ট তাঁর একটি গবেষণায় কৃত্রিম প্ল্যানেটোরিয়ামের ভেতর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, বোগং মথ তখন আকাশের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশটি দেখে নিজেদের পথ চিনে নিচ্ছে! মেঘমুক্ত রাতে চৌম্বক ক্ষেত্র কাজ না করলেও তারা ঠিকই বিকল্প উপায়ে পথ খুঁজে নিতে পারে।

আর সবশেষ হলো, পরিবর্তনের ধীর গতি। মেরু পরিবর্তনের এই ঘটনা কোনো হলিউডের সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো এক রাতের মধ্যে ঘটে যায় না। একটি সম্পূর্ণ মেরু পরিবর্তন হতে কয়েক হাজার বছর, এমনকি ৮০ হাজার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এত দীর্ঘ সময়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রাণীরা খুব সহজেই নতুন চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে নিজেদের জেনেটিক্যালি মানিয়ে নেওয়ার এবং নিজেদের ভেতরের কম্পাসকে নতুন করে ক্যালিব্রেট করার সুযোগ পায়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এস পি

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।