জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরে ‘মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বেইমান’ বললেন বিএনপি প্রার্থী রুমী

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি নেতারা বেইমানি করেছেন। দলটির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার জন্য তাদের পাশাপাশি সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। গতকাল রোববার দুপুরে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী বলেন, ‘কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি এই আসনের দুইবারের এমপি। তাঁর বাবা সৈয়দ মাছউদ রুমীও এমপি ছিলেন। তবে দলীয় কোন্দল, সমন্বয়হীনতা, মনোনয়নবঞ্চিত নেতা ও সমর্থকদের বেইমানির কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।’

নির্বাচনে এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জিতেছেন জামায়াতের মো. আফজাল হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক। সৈয়দ আমজাদ আলী বলেন, দল মেহেদী আহমেদ রুমীকে মনোনয়ন দিলেও শেখ সাদী ও আনছার প্রামাণিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। আনছারের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হয় ও সাদী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তাঁর অভিযোগ, এ দুই নেতা ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিরোধিতা করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট করেছেন।

একই অভিযোগে সৈয়দ আমজাদ আলী কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান ও তাদের সমর্থকদের অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, এই বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লার ভোট করে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। সাংগঠনিক তদন্ত করে তাদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও তাঁর।

কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করায় ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে। এখন আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। মূলত অভিযোগকারীদের কারণেই প্রার্থী হেরেছেন।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এটা কি হয় নাকি! আমাদের বাদ দিলে কি বিএনপি থাকে? শোনেন– আমি, আনছার ভাই, আলাউদ্দিন সাহেব, লুৎফর রহমান, আমরাই তো কুমারখালী-খোকসার নেতা। আমরা যদি (ধানের শীষে) ভোট না করতাম, তাহলে এত ভোট এলো কোথা থেকে?’ তাঁর দাবি, কিছু নেতাকর্মী নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।

 

বাংলা ম্যাগাজিন / এসএন

বাংলা ম্যাগাজিন /এস পি

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।