কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ বাড়ি নিতে অ্যাম্বুলেন্স দিচ্ছে জামায়াত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী। এবং সেই সাথে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেলসহ অন্যান্য নেতা।
পরে তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হতাহতদের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকির জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (NDF)-এর একটি টিম সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছে বলে জানানো হয়।
আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ পরিবহনের সার্বিক তদারকির জন্য কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেলকে প্রধান করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। দুর্ঘটনায় প্রথমে ৭ জন নিহত হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছায়। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পরদিন সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয় এবং জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা ঘোষণা করেন। তিনটি তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে গঠন করা হয়েছে।
বাংলা ম্যাগাজিন / এসএন



