আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা সহজ নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে স্বাধীনতার পর থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বেশি থাকায় এই ভারসাম্য আনা সহজ কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে সরকার নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানির নতুন খাত সম্প্রসারণে কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেটের কাজিরবাজারে নিজ বাসায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এই কথা বলেন তিনি। তিনি পরামর্শ দেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, আমদানি বেশি থাকার প্রধান কারণ হলো দেশে শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না। এর ফলে এই ধরনের কাঁচামাল আমদানি করতে বিদেশের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, বাংলাদেশকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন গম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ চালের ক্ষেত্রে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। 

আগেকার দিনে যেসব কৃষিপণ্যে বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর ছিল, সেগুলোর অনেকটাই এখন দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তবে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন খাতের সন্ধান করা জরুরি।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের সাথে তুলনা করে মুক্তাদির বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। কোনো কোনো দেশে আমদানি রপ্তানির চেয়ে বেশি, আবার কিছু দেশে রপ্তানি বেশি। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সহজ কোনো বিষয় নয়।

সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, জ্বালানি সংকট, লজিস্টিক সমস্যা এবং বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করা প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব বাধা অতিক্রম করতে পারলে দেশে বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী জানান, শিল্প ও বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এস পি

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।